ভোলায় নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন কিস্তি আদায় না করার দাবি জেলেদের

শেয়ার করুনঃ

ভোলা প্রতিনিধি ::: ভোলাসহ উপকূলে ইলিশ মাছের ভরা প্রজনন মৌসুম শুরু হয়েছে। ডিম ছাড়া ও প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে চার নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত ২২ দিন ভোলা, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, চাঁদপুরসহ মেঘনা ও সাগর মোহনার ৭০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় মাছ ধরা, পরিবহন, মজুদ ও বিক্রি করার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক পরিবর্তে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত জেলেদের জালে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ায় তা বিক্রিতে বাজার জমজমাট হয়ে ওঠে।

অপরদিকে মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে এনজিওর ঋণের কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন জেলা মৎস্যজীবী সংগঠনের নেতারা।

ওই সংগঠনের নেতা নুরুল ইসলাম মুন্সি, এরশাদ হোসেন জানান, জেলে পরিবারগুলো গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থা, ব্র্যাক, আশাসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা তৈরি করে থাকে।

করোনাকালীন সময়ে এনজিও সংস্থার কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ রাখার সরকারের নির্দেশও মানেনি এনজিও সংস্থাগুলো। এ অবস্থায় ইলিশের ভরা প্রজনন নিশ্চিত করতে ২২ দিন জেলেরা নদীতে নামতে পারবে না। তাদেও মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এ সময়ে এনজিও সংস্থার ঋণের টাকা পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।

তাই ওই চলতি মাসে কিস্তির টাকা আদায় বন্ধ রাখতে জেলা প্রশাসকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন জেলেরা।

অপরদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল জানান, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরতে নদীতে নামলে অথবা বিক্রি বা মজুদ করা অবস্থার কারনে আইন অমান্যকারীকে এক বছর থেকে কমপক্ষে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

জেলা প্রশাসন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রতি জেলায় ১৫ থেকে ২০টিম অভিযান চালাবে।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোন কমান্ডার জানান, তাদের সংস্থাও মৌসুম সফল করতে নদীতে অবস্থান করবে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া এলাকা থেকে তাদের আনুষ্ঠানিক অভিযান শুরু হবে।