স্থানীয়দের চাপে বিপদ বাড়ছে জঙ্গলে আটকেপড়া অভিবাসীদের

শেয়ার করুনঃ

ইউরোপে অবৈধভাবে পাড়ি দিতে গিয়ে বসনিয়ার জঙ্গলে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। বসনিয়া সরকার তাদের দুর্দশা লাঘবে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

স্থানীয়দের চাপে তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পগুলোও গুঁড়িয়ে দিচ্ছে সরকার। দেশটিতে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস না থাকায় সরকারও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে পারছে না।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) হিসাব অনুসারে দেশটিতে বাংলাদেশিসহ প্রায় আড়াই হাজার অভিবাসী খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নিয়েছেন। সম্প্রতি দেশটির কর্তৃপক্ষ বেশকিছু আশ্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়ায় এ সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আটকেপড়াদের মধ্যে অন্তত ৩০০ বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানা গেছে।

আইওএম জানায়, আমরা দ্রুত একটি মানবিক সংকটের দিকে এগোচ্ছি। নভেম্বরের মধ্যে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেওয়া অভিবাসীর সংখ্যা চার হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার হতে পারে। এই অঞ্চলটিতে প্রচুর বরফ ও ঠান্ডা পড়ে।

এএফপি জানায়, পাহাড় বেয়ে অসংখ্য অভিবাসনপ্রত্যাশী বলকান রুট ধরে স্বপ্নের পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে যাওয়ার একটি পথ হয়ে উঠেছে দরিদ্র দেশ বসনিয়া। তবে অনেকেরই শেষ পর্যন্ত স্বপ্নের দেশে আর যাওয়া হয় না। মৃত্যুতে ইতি ঘটে অনিশ্চিত যাত্রার।

বসনিয়া হয়ে প্রতিদিন অবৈধভাবে ক্রোয়েশিয়া পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন অনেক মানুষ। বসনিয়া ও ক্রোয়েশিয়ার সীমান্তে অবস্থিত একটি জংলি পাহাড় বেয়ে যেতে হয় অভিবাসীদের।

তবে ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ তাদের ধরার জন্য দাঁড়িয়ে থাকে। ধরতে পারলেই তাদের আবার বসনিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয়দের চাপের কারণে বসনিয়া কর্তৃপক্ষ সেখানকার আশ্রয়কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

ক্রোয়েশিয়া সীমান্ত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরের ছোট শহর ভেলিকা ক্লাদুসা-সংলগ্ন জঙ্গল থেকে চতুর্থবারের মতো ওই পাহাড়টি পাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশি মাহবুবুর রহমান। ২৩ বছরের এই তরুণ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ছাড়েন। আসন্ন শীতের আগেই তিনি ইতালিতে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর।

একটি অস্থায়ী ক্যাম্পে বাস করছেন মাহবুবুর রহমানসহ ৩০০ বাংলাদেশি। তাদের বেশিরভাগই তরুণ। প্লাস্টিকের তারপলিনের নিচে ঘুমাচ্ছেন তারা। এতে রাতের শীত থেকে সুরক্ষা মেলে না। এখানে শিগগিরই তাপমাত্রা নামবে শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে।

মাহবুব বলেন, এখন ভীষণ শীত। বৃষ্টিও হচ্ছে। আমাদের খাবার নেই, পানি নেই। লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দিনের বেলায় তাদের অনেকে আশপাশে গোসল সেরে নেন। অন্যরা আবার সামান্য ভাত রান্না করেন কিংবা পাস্তা বানান।

তিনি বলেন, ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ যেভাবে ঠেলে ফেরত পাঠায় তাও এক ধরনের নির্যাতন। তারা আমাদের জ্যাকেট, ব্যাগ, খাবার, জুতা, অর্থকড়িসহ সবকিছু কেড়ে নেয়।

এই অভিবাসীরা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান অথবা মরক্কোর বাসিন্দা। তারা অভিযোগ করেন, ক্রোয়েশিয়ার পুলিশ তাদের মারধর করে থাকে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিষেজ্ঞরা বলছেন, অবৈধ পথে এখন ইউরোপে যাওয়া এবং অভিবাসী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই মহামারির সময়ে দেশে-দেশে প্রবেশের সুযোগও একেবারেই সীমিত। এটা জেনেও যারা ফুসলিয়ে, লুকিয়ে ইউরোপ নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তারা ষড়যন্ত্রকারী হিসেবেই বিবেচিত হয়।

এই ষড়যন্ত্রকারীরা এখন কথায় কথায় ‘অভিবাসন এবং মানব পাচার’ এক শব্দ হিসেবে উচ্চারণ করে। অথচ অভিবাসন বৈধ এবং পাচার অবৈধ। দুটোকে কোনোভাবেই একসঙ্গে উচ্চারণ করা যায় না।